ব্র্যান্ডেএবল ডোমেইন

ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন কি? এখানে ইনভেস্ট করে লাভবান হওয়া কি সম্ভব?

ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন হল এমন এমন শব্দ বা শব্দ সমষ্টি যা সরাসরি কোন কিওয়ার্ড বা অভিব্যক্তি প্রকাশ করে না (উদাহরণস্বরূপ, অ্যামাজন, গুগল, ফেসবুক ডটকম)।  ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন সরাসরি কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের নাম থাকে না পরবর্তিতে বরং ব্র্যান্ডের মাধ্যমেই এর প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিস পরিচিত হয়। তেমনি একটি ব্র্যান্ডের কথা যদি বলি ইভ্যালি। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এই ডোমেইন এর কোন ভ্যালু ছিল না, এমনকি ডোমেইনটি ড্রুপ হওয়ার রেকর্ড আছে। কয়েকবার হাত বদলে এর মালিক হয়ত এটিকে ১০০ডলারেও সেল করে দিয়েছি। কিন্তু আজ এই ডোমেইনটির ভ্যালু নিয়ে চিন্তা করে দেখুন। এটিই হচ্ছে ব্র্যান্ডেবল ডোমেইন এর কারিশমা। আজকের নিবন্ধে ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন এর সুবিধা এবং অসুবিধা এবং বাছাই করার পক্রিয়া সকল বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।

তাহলে শুরুতেই ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য গুলো জেনে নেই-

১। প্রাসঙ্গিক বা প্রসঙ্গোচিত- পরিপূরক বা অন্তর্নিহিত অর্থের মাধ্যমে এটি আপনার মিশন, উদ্দেশ্য, পণ্য বা পরিষেবাটির সম্পর্কে গ্রাহকের দৃষ্টিগোচর করে এবং গ্রাহকের কাছে মনে হবে এই নামটি তো এই পন্যকেই নির্দেশ করে। যেমন ধরুন দারাজ। আমার কাছে মনে হয় দারাজ নামটি তো ইকমার্স সাইটের নামই হওয়া উচিত এটি যদি ফ্যাশন প্রোডাক্টের নাম হত তাহলে মনে হয় বেখাপ্পা লাগত।

২। অনন্য- ব্র্যান্ডএবল নাম কিংবা ডোমেইন হবে অনন্য। যাতে নামের মাঝেই এর ইউনিক গুনাবলি আলোচিত হয়।

৩। স্মরণীয়- ব্র্যান্ডএবল নাম সব সময় স্মরণীয় হবে, এই ধরনের ডোমেইন স্মরণ করা সহজ।

৪। বিশ্বাসযোগ্য- অনেকে হয়ত বলতে পারেন নামের মাঝে  বিশ্বাসযোগ্য এবং পেশাদার হওয়ার সম্পর্ক কি। একটু ভাল করে চিন্তা করে দেখুন নাম যদি অপেশাদার হয় তাহলে সে সমস্ত ব্র্যান্ডকে মানুষ বিশ্বাসযোগ্য হলেও বিশ্বাস করে চিন্তা করে।

৫। সংক্ষিপ্ত- ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন সব সময়ই ছোট এক বা দুই শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে। সংক্ষিপ্ত হবার কারনে মানুষ সহজে মনে রাখে।

৬। ইউজার ফ্রেন্ডলি- বানান সহজ; বলা সহজ; কোনও কৌতুকপূর্ণ বিভ্রান্তি নেই এমন।

৭। অক্ষর বিন্যাস (CVCVC or VCVCV)- ডোমেইন টি ৪/৫/৬ যত লেটারের ই হোক না কেন সেখানে CVCVC or VCVCV ফরমেট ব্যবহার করলে সেটি উপরোক্ত গুনাবলি গুলো ধারন করতে সক্ষম হবে । এখানে C বলতে consonant এবং V বলতে vowel ।

ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন ইনভেস্ট এর সুবিধা-

১। আপনি ডোমেইন আফটার মার্কেটে চোখ রাখলে কম দামে ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন সংগ্রহ করে রাখতে পারবেন। কারন অনেকেই কয়েক বছর নিজ সংগ্রহে রাখার পর হতাশ হয়ে কম দামে সেল করে দেয়।

২। আপনি চাইলে রির্সাচ করে নিজে ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন হ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

৩। ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন এর টার্গেট কাস্টমার খুজে পেলে আপনি অনেক বেশি দামে সেল করতে পারবেন। আপনার রির্টানটি কয়েকশ গুনও হতে পারে।

৪। ভাল ভাল ৫ কিংবা ৬ লেটারের ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন এর রিসেল ভ্যালু রয়েছে, তাই চাইলে আপনার ইনভেস্ট তুলে নিতে পারবেন।

ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন ইনভেস্ট এর অসুবিধা-

১। টার্গেটেড কাস্টমার এর জন্য অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করা লাগতে পারে। আপনি কত বছর যাবত ডোমেইনটি ভাল দামের জন্য রাখবেন এর কোন সীমারেখা নেই।  সেক্ষেত্রে অনেকে ডোমেইনটি নাম মাত্র মূল্যে বিক্রয় করে দেয় কিংবা ড্রপ করে দেয়। যেমন প্রথম যে লোক ইভ্যালি ডট কম ডোমেইনটি রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন তার ডোমেইন বাছাই পক্রিয়া শতভাগ নির্ভূল হওয়ার পরও হতাশ হয়ে ড্রপ করে দিয়েছিলেন। আজকে তার আফসোস কল্পনা করুন।

২। ভূল ডোমেইন বাছাই করার সম্ভাবনা থাকে। যাতে কয়েক বছর রাখার পর ভূল মনে হয়। এতে লস হবার সম্ভাবনা থাকে।

৩।  নতুন অবস্থায় ব্র্যান্ডএবল ডোমেইনে ইনভেস্টমেন্ট এ আপনি হতাশ হয়ে ইনভেস্টমেন্ট সেক্টর সম্পর্কেই বিরুপ ধারনা তৈরি হতে পারে।

শেষে বলব ব্র্যান্ডেবল ডোমেইন যেমন অনেক টাকা আয়ের হাতছানি তেমনি লস হবার সুযোগও বেশি। তাই প্রথমিক অবস্থায় ব্র্যান্ডএবল ডোমেইন ইনভেস্ট থেকে দূরে থাকাই যুক্তিযুক্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!