ডোমেইন ইনভেস্টমেন্ট – ডোমেইন কি? সংক্ষেপে একটি ডোমেইন এর জীবনচক্র

ডোমেইন

ডোমেইন হচ্ছে মূলত একটি ওয়েব সাইটের নাম যার বাংলা আভিধানিক অর্থ হচ্ছে স্থান। ডোমেইন নাম ব্যবহার করেই একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আপনার সাইটে প্রবেশ করতে পারে। আমরা যখন কোন সাইটে প্রবেশ করি তখন ব্রাউজারে সাইটের এড্রেস দিতে হয়। যেমন-ফেসবুকে প্রবেশ করতে হলে আমাদের লিখতে হয়- www.Facebook.com

এখানে এড্রেসটির তিনটি অংশ-www হচ্ছে World wide web, ২য় অংশ যথা Facebook  হচ্ছে ডোমেইন নাম আর শেষ অংশ .com  হচ্ছে এক্সটেনশন। মূলত সকল ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট আইপি এড্রেস থাকে। যেমনঃ 70.290.155.220।  কিন্তু আপনি আমি বা সাধারন মানুষ চাইলেই এমন আইপি এড্রেস মনে রাখতে পারব না। আর এই মনে রাখার সুবিধার জন্য আইপি এড্রেসের পরিবর্তে ডোমেইন নাম ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ডোমেইন নামই ইউনিক, একজন একবার একটি ডোমেইন ক্রয় করার পর সে না চাইলে উক্ত ডোমেইনটি আর কেউ নিতে পারবে না। তাই দুনিয়াব্যাপি ভাল ডোমেইন এর প্রচুর ভ্যালু। ডোমেইন নামগুলি ICANN (Internet Corporation for Assigned Names and Numbers) নামক সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়।

এক্সটেনশন

এক্সটেনশন হচ্ছে মূলত ডোমেইন নামের শেষ অংশ। উপরে যেমন বলেছি ফেসবুক এর ডোমেইন এক্সটেনশন হচ্ছে ডট কম। এই রকম আরও অনেক ডোমেইন এক্সটেনশন রয়েছে যেমন .net, .org, .info ইত্যাদি। এই এক্সটেনশন আবার কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন-

TLD = Top Level Domain । যেমনঃ .com, .org, .net, .info, .pw, .me ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে সর্বোচ্চ লেভেল এর ডোমেইন।

gTLD = Generic Top Level Domain । Top Level Domain গুলোর মধ্যে যেগুলো কোন দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট না তাদেরকে gTLD বলে। .com, .org, .net, .info ইত্যাদি যেমন Top Level Domain তেমনি  .in, .pk ইত্যাদি Generic Top Level Domain।

ccTLD = Country Code Top Level Domain । বিভিন্ন দেশের নিজস্ব যেই ডোমেইনগুলো থাকে তারা হচ্ছে Country Code Top Level Domain । যেমন বাংলাদেশের ডোমেইন এক্সটেনশন হচ্ছে .bd

ডোমেইন এর জীবনচক্র

আপনি একটি ডোমেইন ক্রয় করার পর কতদিন আপনার মালিকানায় রাখতে পারবেন। ধরেন আজকে আমি একটি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করলাম যার নাম এবিসি ডট কম। এখন এই রেজিস্ট্রেশন এরপর কিন্তু আমি ডোমেইনটির আজীবন মালিক হয়ে যাই নি। আমাকে এটি প্রতি বছর (কিংবা একসাথে সর্বোচ্চ ১০ বছর) রিনিউ চার্জ দিয়ে এটিকে আমার মালিকানায় রাখতে হবে। আমি যত বছর রিনিউ চার্জ দিয়ে ডোমেইনটিকে আমার মালিকানায় রাখব তত বছর কেউ চাইলেও আর ডোমেইন আমার কাছ থেকে ক্রয় ব্যাতিত নিতে পারবে না। ডোমেইনিয়াররা মূলত ভাল ভাল ডোমেইন মার্কেটপ্লেস কিংবা হ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন করে তার মালিকানায় রেখে দেয় পরবর্তীতে যখন কারো এই ডোমেইনটি প্রয়োজন পড়ে তার কাছে অনেকগুন বেশি দামে বিক্রয় করে দেয়। এখন আমি যে এবিসি ডট কম ডোমেইনটি ক্রয় করেছি বছর শেষে আমি হয়ত ডোমেইনটি রিনিউ করতে ভূলে গেছি, কিংবা আমার ডোমেইনটি একটি প্রজেক্টের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে যা ১ বছরের জন্যই ছিল তাই এটি আর আমার প্রয়োজন নেই রিনিউ করার। তখন এটি একটা পক্রিয়ার মাধ্যমে ডিলিট হয়ে সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় যেটিকে ডোমেইন লাইফ সাইকেল বা ডোমেইন এর জীবনচক্র বলা হয়।  আর তখনই ডোমেইনিয়াররা ডোমেইনটি আবার রেজিস্ট্রেশন করে মার্কেটপ্লেসে বিক্রয় এর জন্য রেখে দেয়।

তাহলে ডোমেইন এর জীবনচক্র প্রক্রিয়াটি দেখে নেই-

প্রথম- এভেইলেবল বা মার্কেটপ্লেস থেকে ক্রয়

দ্বিতীয়- এক্টিভ ( ১ থেকে ১০ বছরের জন্য )

তৃতীয়-  এক্সপায়ার্ড পিরিয়ডসর্বোচ্চ ৪৫ দিন (এই সময় চাইলে ডোমেইন এর মালিক রিনিউ চার্জ দিয়ে মালিকানা ধরে রাখতে পারবে বা ট্রান্সফার করতে পারবে)।

চতুর্থ- রিডিমশন গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় ৩০ দিন (এই সময় চাইলে ডোমেইন এর মালিক অতিরিক্ত চার্জ দিয়ে মালিকানা ধরে রাখতে পারে)।

পঞ্চম- পেন্ডিং ডিলিট বা ডিলিট হওয়ার পূর্বমুহূর্ত কমেবেশি ৫ দিন।

ষষ্ঠ- ডিলিট বা পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করার জন্য উন্মুক্ত

আশা করছি ডোমেইন এর এই পুরো বিষয়টি বুঝতে আপনার অসুবিধা হয় নি, কারন এই সম্পর্কিত জ্ঞান না থাকলে আপনি ডোমেইন ইনভেস্টমেন্ট করতে পারবেন না। আজকের এই লিখা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টস করতে ভূলবেন না।

Source: ICANN

2 thoughts on “ডোমেইন ইনভেস্টমেন্ট – ডোমেইন কি? সংক্ষেপে একটি ডোমেইন এর জীবনচক্র”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!